বিসিএস ক্যাডার

বিসিএস ক্যাডার হওয়ার সুযোগ সুবিধা- কেন বিসিএস ক্যাডার হবেন

সুপ্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ, আজ আপনাদের মাঝে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার সুযোগ সুবিধা নিয়ে হাজির হয়েছি। আমরা যারা চাকরি প্রার্থী আছি তারা সকলেই বুকে স্বপ্ন বেঁধে রাখে যে একদিন আমিও বিসিএস ক্যাডার হব। আমরা সকলেই জানি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা হল সবচেয়ে সম্মানি এবং সবচেয়ে বড় পদের চাকরি হল বিসিএস ক্যাডার যা সারা দেশব্যাপী পরিচালিত একটি হাইভোল্টেজ প্রতিযোগিতামূলক চাকরির পরীক্ষা এবং এর মাধ্যমে আপনি আমি বিসিএস ক্যাডার হওয়ার সুযোগ পেয়ে তাহকি। তাই বলা যায় যে বিসিএস ক্যাডার হতে কত হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করতে হয়। শুধু হাড়ভাঙা পরিশ্রম করলেই হবেনা সেটা হতে হবে যথোপযুক্ত সময়োপযোগী। কিন্তু অনেকেই না বুঝে শুধু বিসিএস নিয়ে পড়ে থাকে এবং অনেকেই ভাবে যে  পড়াশুনা শেষ করে bcs ক্যাডার হব। আবার অন্যদিকে বলা যায় যে সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে ভাল একটা শিক্ষার্থী bcs ক্যাডার হতে পারে না। তাই সবারই স্বপ্ন থাকে ক্যাডার হওয়ার। বাস্তবে এই স্বপ্ন পূরণ করা অনেক কঠিন, তার জন্য প্রয়োজন প্রচুর পড়াশোনা এবং অধ্যবসায়।  কারণ ক্যাডার হতে গেলে শুধু ভাল শিক্ষার্থী হওয়াই প্রয়োজন নয় বরং একসাথে মেধা, সময় জ্ঞান এবং সঠিক পরিশ্রম হলেই একজন bcs ক্যাডার হতে পারবে বলে আমি ব্যাক্তিগতভাবে মনে করি। বিসিএস ক্যাডার হওয়ার সুযোগ সুবিধা কি কি, আপনি কেন বিসিএস ক্যাডার হবেন, বিসিএস পরীক্ষা পদ্ধতি কেমন, বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সিলেবাস সম্পর্কে পাবেন তাই আপনাদের জন্য আজকে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার সুযোগ সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। 

আরো পড়ুনঃ

৪৩ তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ব্যাখ্যাসহ প্রশ্ন ও উত্তর

৪০ তম বিসিএস প্রিলিমিনারি টেস্টের ইংরজির ব্যাখ্যাসহ নির্ভুল সমাধান

 

বিসিএস ক্যাডার হওয়ার সুযোগ সুবিধা- কেন বিসিএস ক্যাডার হবেন
বিসিএস ক্যাডার হওয়ার সুযোগ সুবিধা- কেন বিসিএস ক্যাডার হবেন

 

আসুন জেনে নেওয়া যাক আজকের আলোচনা টপিকঃ

বিসিএস ক্যাডার বলতে আমরা কি বুঝি?

বিসিএস পরীক্ষা পদ্ধতিঃ 

বিসিএস ক্যাডারের কি কি ক্যাটাগরি আছে?

বিসিএস পড়ার পেছনে কি কি কারণ থাকতে পারে?

আজ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিসিএসের এতো কদর কেন?

 

বিসিএস ক্যাডার বলতে আমরা কি বুঝি?

বিসিএস বলতে আমরা বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস কে বুঝি। আর বিসিএস পরীক্ষা হচ্ছে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস এ ঢুকার জন্য যেসব পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয় তাকে বিসিএস পরীক্ষা বলে। বিসিএস পরীক্ষা বিপিএসসি বা বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন কর্তৃক পরিচালিত একটি সম্মানজনক পরীক্ষা। যা বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে বর্তমানে মোট ২৬ টি ক্যাডার পদে বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে চাকরি প্রার্থী নিয়োগ করা হয়ে থাকে। আমরা ইতিপূর্বে জেনেছি যে, ২০১৮ সালে ইকোনোমিক ক্যাডারকে প্রশাসন ক্যাডারের সাথে একিভূত কর হয়। 

বিসিএস ক্যাডার পরীক্ষা পদ্ধতিঃ 

বিসিএস পরীক্ষা সাধারণত তিনটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। 

প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা যা ২০০ নম্বরের MCQ পরীক্ষা, 

বাছাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিয়ে ক্যাডারভিত্তিক ৯০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা, এবং লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের নিয়ে ২০০ নম্বরের ইন্টারভিউ বা মৌখিক পরীক্ষা হয়। 

বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার বিষয় ও নম্বরঃ 

  • বাংলা ভাষা ও সাহিত্য- ৩৫
  • ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য- ৩৫
  • বাংলাদেশ বিষয়াবলি- ৩০
  • আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি- ২০
  • ভূগোল (বাংলাদেশ ও বিশ্ব), পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা- ১০
  • সাধারণ বিজ্ঞান- ১৫
  • কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি- ১৫
  • গাণিতিক যুক্তি- ১৫
  • মানসিক দক্ষতা- ১৫
  • নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সু-শাসন- ১০

মোট ২০০ নম্বরের বিসিএস প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা যা ২০০ নম্বরের MCQ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। 

বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সিলেবাসঃ

বিসিএস ক্যাডার- বাংলাঃ ৩৫

  • ভাষা বা ব্যাকরণ– ১৫ 

(প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ, বানান ও বাক্য শুদ্ধি, পরিভাষা, সমার্থক ও বিপরিতার্থক শব্দ, ধ্বনি, বর্ণ, শব্দ, বাক্য, প্রত্যয়, সন্ধি সমাস থেকে মোট ১৫ নম্বর) 

  • বাংলা সাহিত্য– ২০

(প্রাচীণ ও মধ্যযুগ থেকে ০৫ নম্বর এবং আধুনিক যুগ ১৮০০ থেকে বর্তমান পর্যন্ত মোট ১৫ নম্বর) 

বিসিএস ক্যাডার- ইংরেজিঃ ৩৫

  •  Language– 20. 

1.    Part A- Parts of speech.

2.    Part B- Idioms and Phrases.

3.    Part C: Clauses.

4. Part D: Correction (Tense, Verb, Preposition, Determiner, Gender, Number, Subject-verb agreement).

5.    Part E: Sentence and Transformation (Sentence, Voice, Degree).

6. Part F: Words (Meanings, Synonyms, Antonyms, Spellings, Usage of words as Various parts of speech, Suffix and prefix).

7. Part G: Composition (names of parts of paragraphs/ letters/ applications).

 

  • English Literature– 15

1.    Names of writers of literary pieces from the Elizabethan period to the 21st Century.

2.    Quotations from drama/ poetry of different ages.

 

বিসিএস ক্যাডার- বাংলাদেশ বিষয়াবলীঃ ৩০

 

  • বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলী– ০৬
  • বাংলাদেশের কৃষিজ সম্পদ– ০৩
  • বাংলাদেশের জনসংখ্যা ও আদমশুমারী– ০৩
  • বাংলাদেশের অর্থনীতি– ০৩
  • বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্য– ০৩
  • বাংলাদেশের সংবিধান– ০৩
  • বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা- ০৩
  • বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা– ০৩
  • বাংলাদেশের জাতীয় অর্জন ও অন্যান্য– ০৩

বিসিএস ক্যাডার- আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীঃ ২০

  • সাম্প্রতিক ও চলমান ঘটনাপ্রবাহ্– ০৪
  • বৈশ্বিক ইতিহাস, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ভূ-রাজনীতি– ০৪
  • আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও আন্তরাষ্টীয় ক্ষমতা সম্পর্ক– ০৪
  • আন্তর্জাতিক পরিবেশগত ইস্যু ও রাষ্টনীতি– ০৪
  • আন্তর্জাতিক সংগঠন এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি– ০৪


বিসিএস ক্যাডার- ভূগোল পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাঃ ১০

  • বাংলাদেশ ও অঞ্চলভিত্তিক ভৌগলিক অবস্থান, সীমানা, পারিবেশিক, আর্থ-সামাজিক ও ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব- ০২
  • অঞ্চলভিত্তিক ভৌত পরিবেশ (ভূ-প্রাকৃতিক) সম্পদের বণ্টন ও গুরুত্ব- ০২
  • বাংলাদেশের পরিবেশঃ প্রকৃতি ও সম্পদ, প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ- ০২
  • বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তনঃ আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ামকসমূহের সেক্টরভিত্তিক (যেমন অভিবাসন, কৃষি, শিল্প, মৎস্য ইত্যাদি) স্থানীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব- ০২
  • প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনাঃ দুর্যোগের ধরণ, প্রকৃতি ও ব্যবস্থাপনা- ০২

 

বিসিএস ক্যাডার- বিজ্ঞানঃ ১৫

  • ভৌত বিজ্ঞান-০৫
  • জীব বিজ্ঞান– ০৫
  • আধুনিক বিজ্ঞান– ০৫

 

বিসিএস ক্যাডার- কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তিঃ ১৫

  • কম্পিউটার– ১০
  • তথ্যপ্রযুক্তি– ০৫

 

বিসিএস ক্যাডার- গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতাঃ ৩০

  • গাণিতিক যুক্তিঃ ১৫ (পাটিগণিত– ০৩; বীজগণিত– ০৬; জ্যামিতি– ০৩; পরিসংখ্যান ও অন্যান্য– ০৩)
  • মানসিক দক্ষতাঃ ১৫


বিসিএস ক্যাডার- নৈতিকতা মূল্যবোধ ও সুশাসনঃ ১০

 

বিসিএস ক্যাডার লিখিত পরীক্ষার বিষয় ও নম্বরঃ 

বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ৯০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং ২৬টি ক্যাডার পদ সাধারণত দুই ক্যাটাগরিতে বিভক্ত যেমন সাধারণ ক্যাডার (৯০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা) এবং কারিগরি/ পেশাগত ক্যাডার (৯০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা)। 

সাধারণ ক্যাডারের জন্য বিষয়ভিত্তিক নম্বর বিভাজনঃ

নিচে সাধারণ ক্যাডারের জন্য বিষয়ভিত্তিক নম্বর বিভাজন বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

  • বাংলা- ২০০
  • ইংরেজি- ২০০
  • বাংলাদেশ বিষয়াবলি- ২০০
  • আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি- ১০০
  • গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা- ১০০
  • সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি- ১০০

মোট ৯০০ নম্বরের সাধারণ ক্যাডারের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। 

কারিগরি/পেশাগত ক্যাডারের জন্য বিষয়ভিত্তিক নম্বর বিভাজনঃ

নিচে কারিগরি/পেশাগত ক্যাডারের জন্য বিষয়ভিত্তিক নম্বর বিভাজন বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

  • বাংলা- ১০০
  • ইংরেজি- ২০০
  • বাংলাদেশ বিষয়াবলি- ২০০
  • আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি- ১০০
  • গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা- ১০০

এবং পদ-সংশ্লিষ্ট বিষয়- ২০০ নম্বর সহ মোট ৯০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

 

বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় পাশ নম্বরঃ

একজন বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী লিখিত পরীক্ষায় মোট নম্বরের ৫০% নম্বর পেতে হবে। 

বিসিএস ক্যাডার মৌখিক পরীক্ষাঃ 

বিসিএস ক্যাডার হতে গেলে একজন বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ২০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় বাধ্যতামূলকভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে। তবে মৌখিক পরীক্ষায়ও লিখিত পরীক্ষার মত মোট নম্বরের ৫০% নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। 

সিভিল সার্ভিস সম্পর্কে সম্যক ধারণাঃ

সিভিল সার্ভিসঃ

এ অধ্যায়ে আমরা সিভিল সার্ভিস সম্পর্কে জানব। আমরা সিভিল সার্ভিস বলতে সরকারি চাকরিকে বুঝি। আমাদের দেশে সরকারি চাকরি দুইভাগে বিভক্ত।  আর তা হলো সিভিল ও মিলিটারি। 

জেলা লেভেলঃ

সিভিল সার্ভিস বলতে আমরা জেলা লেভেলে জেলা প্রশাসক/ ম্যাজিস্ট্রেট (ডিসি), উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি), বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে বুঝি। 

উপজেলা পর্যায়ঃ

অন্যদিকে উপজেলা পর্যায়ে সাধারণ প্রশাসনের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং রাজস্ব প্রশাসনের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিভিল সার্ভিসের অন্তর্ভূক্ত। 

বিভাগীয় পর্যায়েঃ

আবার বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনার ((অতিরিক্ত সচিব), অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) (যুগ্মসচিব), অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন ও আইসিটি), বিভাগীয় কমিশনারের একান্ত সচিব সিভিল সার্ভিসের অন্তর্ভূক্ত। 

মন্ত্রণালয় পর্যায়েঃ

এবং মন্ত্রণালয় পর্যায়ে উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব, সচিব, সিনিয়র সচিব, মুখ্য সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিবের পদগুলো সিভিল সার্ভিসের আওতায়। 

 

বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসের ক্যাডার কতটি? 

সাধারণ ক্যাডার সাধারণত প্রশাসন, পররাষ্ট্র, আনসার, নিরীক্ষা ও হিসাব, সমবায়, শুল্ক ও আবগারি, পরিবার পরিকল্পনা, পুলিশ, ডাক, কর ক্যাডারসহ মোট  ১০টি ক্যাডার অন্তর্ভুক্ত।

 

কারিগরি/ পেশাগত ক্যাডার সাধারণত কৃষি, মৎস্য, বন, স্বাস্থ্য, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল, গণপূর্ত, রেলওয়ে প্রকৌশল, সড়ক ও জনপথ, পরিসংখ্যান, কারিগরি শিক্ষা, সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারসহ মোট  ১১টি ক্যাডার অন্তর্ভুক্ত।

 

সাধারণ এবং কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার সাধারণত খাদ্য, তথ্য, পশু সম্পদ, রেলওয়ে পরিবহন ও বাণিজ্যিক, বাণিজ্য ক্যাডারসহ মোট ০৫টি ক্যাডার অন্তর্ভুক্ত।

সাধারণ ক্যাডার (১০ টি), কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার (১১ টি) এবং সাধারণ এবং কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার (০৫ টি) মোট ২৬ টি ক্যডার পদ রয়েছে। 

বিসিএস ক্যাডার পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতাঃ

  • বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশের নাগরিক হওয়া বাধ্যতামূলক। 
  • পিএসসি থেকে বেঁধে দেওয়া বয়সসীমার মধ্যে হতে হবে। অর্থাৎ সাধারণ প্রার্থীদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ বছর এবং মুক্তিযুদ্ধ কোটা, প্রতিবন্ধী কোটাধারীদের জন্য বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩২ বছর গ্রহণযোগ্য। 
  • যে কোন বিষয়ে যে কোন কলেজ, প্রাইভেট, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার বছরের অনার্স ডিগ্রী বা সমমানের ডিগ্রী থাকতে হবে তবে তিন বছরের পাস কোর্স শেষে এক বছরের প্রিভিয়াস মাস্টার্স ডিগ্রী সম্পূর্ণকারীরা আবেদনের যোগ্য হবেন।
  • বিদেশে পড়াশুনা করা শিক্ষার্থীও শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি নেওয়া সাপেক্ষে বিসিএস এ আবেদন করতে পারবেন। তবে শর্ত থাকে যে বিসিএসে আবেদন করতে হলে তাদের ডিগ্রী বাংলাদেশের চার বছরের ডিগ্রীর সমান থাকতে হবে। 
  • শিক্ষাজীবনে একের অধিক তৃতীয় বিভাগ গ্রহণযোগ্য নয়। 
  • ইংলিশ মিডিয়াম বা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীগণও বিসিএসে আবেদন করতে পারবেন। 

বিসিএস ক্যাডার পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মেডিকেল টেস্টঃ

অনেকেই মনে করেন যে বিসিএস ক্যাডার পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের পুলিশ বা আর্মিদের মত মেডিকেল টেস্ট হয়। এখানে উল্লেখ করা ভাল যে সিভিল সার্ভিস বা বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মেডিকেল টেস্ট একদমই সাধারণ হয়। কিন্তু আপনার যদি গুরুতর কোন সমস্যা না থেকে থাকে তাহলে আপনার ছিটকে বা বাদ পড়ার কোন সম্ভাবনা নেই। তবে পুলিশের মেডিকেল টেস্ট বাকি সব ক্যাডারদের থেকে তেমন কোন আলাদা নেই। পুলিশের ক্ষেত্রে চোখের পরীক্ষার নিয়ম হচ্ছে আপনার চোখ যেমনই হোক না কেন যদি চশমা পরার পর সেটা ৬/৬ হয় তাহলে কোন সমস্যা থাকবেনা।   

 

বিসিএস ক্যাডার সম্পর্কে শেষকথাঃ 

এতক্ষণে আপনারা বিসিএস ক্যাডার হওয়ার সুযোগ সুবিধা- কেন বিসিএস ক্যাডার হবেন, বিসিএস ক্যাডার বলতে আমরা কি বুঝি, বিসিএস পরীক্ষা পদ্ধতি, বিসিএস ক্যাডারের কি কি ক্যাটাগরি আছে, বিসিএস পড়ার পেছনে কি কি কারণ থাকতে পারে, আজ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিসিএসের এতো কদর কেন ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করি এ থেকে আপনারা বিসিএস ক্যাডার পরীক্ষার সুযোগ সুবিধা জানতে পেরেছেন। বিসিএস ক্যাডার হওয়ার সুযোগ সুবিধা কি কি, আপনি কেন বিসিএস ক্যাডার হবেন, বিসিএস পরীক্ষা পদ্ধতি কেমন, বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সিলেবাস সম্পর্কে পাবেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button