ক্যারিয়ার গাইডলাইন

যেকোন চাকরি পেতে দরকারি ৫টি পরামর্শ


বাংলাদেশে বেকারত্ব একটি প্রকট সমস্যা। এ সমস্যা নিরসনে বর্তমান সরকার নিবীড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বেকারত্ব দূরীকরণে সরকারকের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বেকারেরা রাত দিন কঠোর পরিশ্রম করে চলেছেন। ছাত্রজীবনের শুরু থেকেই একটু কৌশলী না হলে ভাল কোন চাকরি পাবেন না। এমনকি পড়াশুনা শেষেও চাকরির প্রস্তুতি নিতে গেলে হিমশিম খেয়ে যাবেন। এই হিমশিম খাওয়া শিক্ষার্থীরাই চাকরি জীবনে ভাল একটা চাকরি পেতে কঠোর পরিশ্রম করেন। তাই এক্ষেত্রে একটি সরকারি চাকরি পাওয়ার জন্য অনেক বেকার একটি বেদনাদায়ক ও যন্ত্রণাদায়ক সময় পার করে চলেছেন। বর্তমান সময়ে চাকরি পাওয়ার ব্যাপারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিত্য নতুন চাহিদা দিয়ে আসছেন।  

সারাবিশ্ব এগিয়ে চলার সাথে সাথে বাংলাদেশও তার পিছু পিছু হাটছে। তাই নিজেকে বর্তমান পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য যথেষ্ট চর্চা করতে হবে। এক্ষেত্রে অনেকেই পরামর্শ দিয়ে থাকেন যে, ইংরেজি শিখ, নতুন বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলুন ইত্যাদি। এসবের পাশাপাশি আজ আপনাদের জন্য চাকরি পেতে দরকারি ৫টি মরামর্শ শেয়ার করব যা একজন বেকারের জন্য অতীব জরুরি।

 ব্যাংকে চাকরি পাওয়ার জন্য এই পোস্টটি পড়তে পারেন ব্যাংকে চাকরি পাওয়ার ৫টি সহজ ও অবিশ্বাস্য উপায়

বিশ্বাসী রেফারেন্স তৈরি করুনঃ-

রেফারেন্স বলতে যে ব্যক্তি আপনার চাকরি পেতে সাহায্য করবে এমন একজন। সে আপনার বসকে ফোন করবে বা আপনার রেফারেন্সকারীর নাম সিভিতে লিখে দিবেন তাহলে আপনার রেফারেন্স তৈরি হয়ে যাবে। এমনও নজির দেখতে পাবেন যে, যে রেফারেন্সকারীর নাম সিভিতে উল্লেখ করেছেন তাঁর সাথে আপনার কোম্পানীর বস নিবিড়ভাবে জানে। তাঁর নাম দেখার সাথে সাথে আপনাকে আগেই ভাইভার জন্য নির্বাচন করবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেখা যায় যে, অনেকেই দলীয় পরিচয় দিয়ে রেফারেন্সের ভিত্তি শক্ত করে। এতে ঐ ব্যক্তি তৎক্ষণাৎ চাকরি পেয়ে যেতে পারেন। অথবা ভাইভা বোর্ডে এমন উল্লেখযোগ্য কয়েকজনের নাম বলতে বলেন তা যদি আপনি বিশ্বাসী বা প্রচলিত নাম বলতে পারেন আর যদি সে নামগুলো ঐ বোর্ডের পছন্দ হয় তাহলে আপনিই চাকরি পাবেন। তাই একটি ভাল চাকরি পেতে চাকরির শুরুতে বিশ্বাসী রেফারেন্স তৈরির বিকল্প নেই।

বর্তমান চাকরির বাজার সম্পর্কে আপডেট রাখুনঃ-

বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ঐ ব্যক্তিই চাকরি পাচ্ছেন যে ব্যক্তি বর্তমান চাকরির বাজার সম্পর্কে সম্পূর্ণ আপডেট রাখছেন। আপনি যদি ভাল মানের একটা চাকরি পেতে চান তাহলে আপনাকে বর্তমান চাকরির বাজার সম্পর্কে আপডেট রাখতে হবে। আপনি যদি চাকরির বাজার সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান না রাখেন তাহলে অন্যদের থেকে আপনি একধাপ পিছিয়ে যাবেন। মূল কথা হল, চাকরির চাহিদা অনুসারে নিজেকে প্রস্তুত করে নিতে হবে। তাই সে অনুসারে নিজেকে সাজিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন সংবাদপত্র পড়া, টেলিভিশনের খবর শোনা, গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান দর্শন ও পরিদর্শন, ব্যবসা সংক্রান্ত বই পড়া, বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনাবলী অধ্যয়ন ইত্যাদি সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখতে হবে। উপরিউক্ত বিষয় অনুসরণ করার পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্যবহারের ব্যতিক্রম নেই। মনে রাখতে হবে যে, ইন্টারনেট হচ্ছে সব জ্ঞানের উৎস, অর্থাৎ এখানে এমন কোন বিষয় নেই যে আপনি পাবেন না। এজন্য উইকিপিডিয়া তে চোখ রাখতে হবে।  

প্রশিক্ষণের প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনা গ্রহণঃ-

মনে রাখবেন, এই প্রতিযোগিতার যুগে একটা চাকরি মানে নিজেকে বেঁচে রাখার পাশাপাশি পরিবারকে সমর্থন করার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই নিজেকে সবসময় একটা চাকরির জন্য প্রশিক্ষণের উপযোগী করে গড়ে তোলাই প্রধান অন্তরায়। একটি চাকরি পাওয়ার জন্য অন্যদের থেকে নিজেকে সবসময় এক ধাপ এগিয়ে রাখতে হবে। এজন্য বিভিন্ন বিষয়ের উপর আগে থেকেই প্রশিক্ষণ নিয়ে সনদপত্র সংগ্রহ করে রাখতে হবে। চাকরিতে আবেদনের পরে সে চাকরিকে ভালবাসার ক্ষেত্র বানাতে হবে। একজন প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী আর একজন প্রশিক্ষণ ছাড়া আবেদনকারীর মধ্যে আকাশ পাতাল তফাৎ। কারণ, একজন প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী সবসময় তার থেকে ভালভাবে কাজ করতে সক্ষম হবে। তাই চাকরি পাওয়ার দিক থেকে একজন প্রশিক্ষণ গ্রহনকারী সবসময় আগে চাকরি পাবে। আর এটাই বাস্তবতা। কারণ, ভাইভা বোর্ডে চাকরি প্রার্থীকে প্রশ্ন করা হয় যে, তার কোন প্রশিক্ষণ নেওয়া আছে কিনা? এক্ষেত্রে উত্তর হা হলে সে এক ধাপ এগিয়ে যায়। আর উত্তর না হলে বোর্ডের নেগেটিভ প্রতিক্রিয়া তার উপর পড়ে। তাই চাকরি পাওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ গ্রহণের বিকল্প কোন পথ নেই।

যে ১০ টি কারণে আপনার চাকরি হয়না অনাকাঙ্ক্ষিত যে ১০টি কারণে আপনার চাকরি হচ্ছেনা

চাকরির মেলা পরিদর্শন করুনঃ-

এই ডিজিটাল বাংলাদেশের যুগে চাকরি প্রার্থীকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন কোম্পানী বছরে একবার বা দুইবার চাকরির মেলার আয়োজন করে। এতে বিভিন্ন কোম্পানী অংশগ্রহণ করে চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে সিভি আহবান করে। যারা চাকরির বাজার এবং চোখ কান খোলা রেখে চলাফেরা করে তারা সিভি পাঠিয়ে সে সব কোম্পানীতে সহজেই ভাইভার জন্য ডাক পায়। কিন্তু আপনি যদি চাকরির মেলা সম্পর্কে কিছুই না জানেন, সারাদিন নাক ডেকে ঘুমানোর কারণে কিছুই খবর রাখলেন না তাহলে চাকরি নামের সোনার হরিণ আপনার কপালে লেখা নেই। তাই নিত্য নতুন চাকরির মেলা পরিদর্শন করে চাকরি সম্পর্কে আপডেট রাখাই চাকরি পাওয়ার জন্য অনেক এগিয়ে রাখবে।

এই পোস্ট আপনাকে সাহায্য করতে পারেঃ বিসিএস পরীক্ষা সন্নিকটে এলে কিভাবে প্রস্তুতি নিবেন?

ছোট চাকরি শুরু করুনঃ-

অনেকেই মনে করেন, বর্তমান বাজারে একটা চাকরি পাওয়াই অনেক ভাগ্যের ব্যাপার। এটাই চিরন্তন সত্য। তবে মনে সবসময় উচ্চাশা পুষিয়ে রাখা উচিত না। কারণ উচ্চাশা অনেকক্ষেত্রেই পূরণ হয়না। আপনি যদি চাকরি প্রার্থী হোন, তাহলে পড়াশুনা শেষে ছোট চাকরি দিয়ে আপনার ক্যারিয়ার শুরুর করুন। একটা ছোট চাকরি আপনাকে অনেক সাহায্য করবে। ঐ ছোট চাকরি শুরু করলে আপনি চাকরির স্থানে অনেক কিছু শিখবেন। এটা আপনাকে ভাল চাকরির ভাইভাতে সাহায্য করবে। অন্য কোম্পানীর ভাইভা দিতে আপনার উপস্থাপন ক্ষমতা, কথাবার্তা বলার স্টাইল, আচার ব্যবহার অনেক কিছু শিখতে পারবেন যা অন্য চাকরি পাওয়ার পর সাহায্য করবে। তাই ছোট চাকরি দিয়ে আপনার ক্যারিয়ার শুরু করলে আপনি বড় বা ভাল চাকরি পেতে অনেক সহায়তা করবে। 

এতক্ষণে আপনারা যেকোন চাকরি পেতে দরকারি ৫টি পরামর্শের বিষয়ে বিশদভাবে আলোচনা করা হলো। এর মধ্যে যদি কোন ভুল থেকে থাকে তাহলে কমেন্ট বক্সে জানাবেন। আর ভাল লাগলে শেয়ার করে দিবেন। 

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button