বিসিএস প্রস্তুতি নিয়ে হাইভোল্টেজ পরামর্শ | কিভাবে শুরু করা উচিত আপনার বিসিএস প্রস্তুতি ?

বাংলাদেশে বর্তমানে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে চাহিদা বাড়ছে বিসিএস চাকরি প্রত্যাশীদের। তবে এই অর্জনে বাধা কেবল একটি জায়গায়। তা হলো গোছানো বিসিএস প্রস্তুতি এর অভাব। আসলে প্রাপ্তি যেমন বিশাল এই প্রাপ্তির জন্য প্রস্তুতিও নিতে হয় ঠিক ততটাই শক্তপোক্ত। তাই আজ কথা বলবো বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে। কিভাবে শুরু করবেন বিসিএস প্রস্তুতিতে বই কেমন হওয়া উচিত, বিসিএস প্রস্তুতির রুটিন এবং কিভাবে গোছালো প্রস্তুতি থেকে সফলতা আনয়ন করবেন তাই জানাবো আজকের বিসিএস প্রস্তুতি বা বাংলার দিকপাল ব্লগটিতে

এখানে বিসিএস প্রস্তুতি ওয়েবসাইট কোনটি সেরা, কিভাবে অনার্স থেকে বিসিএস প্রস্তুতি নিতে হয়, বিসিএস প্রস্তুতি কিভাবে শুরু করব এ সম্পর্কে বিস্তারিত গাইডলাইন, ২ মাসে বিসিএস প্রস্তুতি এর জন্য সুপরিকল্পিত নির্দেশনা, বিসিএস প্রস্তুতি রুটিন কিভাবে বানাবেন এবং সে অনুযায়ী কিভাবে পড়বেন, অনলাইনে বিসিএস প্রস্তুতি এর জন্য সঠিক পরামর্শ, এক মাসে বিসিএস প্রস্তুতি এর সঠিক নিয়ম কানুন এবং বিসিএস প্রস্তুতি বই নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।বিসিএস প্রস্তুতি নিয়ে হাইভোল্টেজ পরামর্শ কিভাবে শুরু করা উচিত আপনার বিসিএস প্রস্তুতি

 

অল্প তবে নিয়মিত:

বিসিএস প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আপনাকে শুরু করতে হবে খুব অল্প থেকে। শুরুতেই খুব বেশি চাপ না নিয়ে অল্প পড়া থেকে শুরু করুন আপনার প্রস্তুতি। তবে আপনারা অল্প প্রস্তুতিকে নিয়মিত রাখার মাধ্যমেই পরবর্তীতে মিলবে আপনার সফলতা। ১০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি বা এক মাসে বিসিএস প্রস্তুতি এমন প্রচারণায় বিশ্বাসী না হয়ে নিয়মিত বিসিএস প্রস্তুতির চিন্তাকেই আপনার প্রথম স্থান দিতে হবে।

Read More :   ১০-৪০ বিসিএস প্রশ্ন ও উত্তর

শুরু হোক একদম শুরু থেকে:

বিসিএস প্রস্তুতির জন্য আপনাকে ফিরে যেতে হবে আপনার স্কুলজীবনে। বলা চলে এটি যেন আপনার অতীত জীবনে ভ্রমণ অভিজ্ঞতার মতো একটি বিষয়। অর্থাৎ বিসিএস প্রস্তুতির জন্যে আপনাদেরকে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর প্রয়োজনীয় বইগুলো পুনরায় পড়ে ফেলতে হবে এবং আপনার বিসিএস বা যেকোন চাকরির পরীক্ষাতেই পূর্বের শ্রেণীর বইগুলো থেকেই আপনি প্রচুর পরিমাণ প্রশ্ন পাবেন। তাই শুরু করে দিন একেবারে শুরু থেকেই।

Read More :   ১২ টি হাই ভোল্টেজ পরামর্শ বিসিএস প্রস্তুতির জন্য

লক্ষ্য হোক সুনির্দিষ্ট:

এটিই বোধহয় বিসিএস প্রস্তুতির সবচেয়ে জরুরী ধাপ। শুরুতেই আপনাকে আপনার লক্ষ্য স্থির করতে হবে। আপনি কোন ধরনের সফলতা চাচ্ছেন এবং কেন চাচ্ছেন তা স্থির করে তবেই প্রস্তুতির জন্য এগোতে হবে। তাই দিনের পর দিন, মাসের পর মাস লেগে থেকে সফলতা আনার প্রচেষ্টার মানসিকতা তৈরি করতে হবে এবং অতঃপর শুরু করে দিতে হবে আপনার প্রস্তুতি।

জোর দিন বেসিক থেকে শেখায়:

আপনি যখন যেই কোন টপিক বা বিষয়ে পড়বেন তখন আপনি অবশ্যই সে বিষয়টির বেসিক বিষয়গুলো জানার চেষ্টা করবেন। এতে করে ওই টপিকটি থেকে যখনই যেমন প্রশ্ন আসুক আপনি অবশ্যই তা থেকে উত্তর করতে পারবেন। তাই পড়ার সময় পড়ার বেসিক থেকে শুরু করার চেষ্টা করুন। 

Read More :   বিসিএস পরীক্ষা সন্নিকটে এলে কিভাবে প্রস্তুতি নিবেন?

সিলেবাস সম্পর্কে সম্যক ধারণা নেয়া :  

বিসিএস প্রস্তুতি শুরুর পূর্বেই আপনাকে বিসিএস এর সিলেবাস নিয়ে বিস্তারিত ধারনা নিতে হবে। সিলেবাস দেখে কোন টপিক গুলো থেকে কিভাবে পড়তে হবে সে সম্পর্কে আপনি একটি গোছালো চিন্তাভাবনা আগেই তৈরি করতে হবে।

ইংরেজি ভীতি দূরীকরণ:

বিসিএস প্রস্তুতি নেয়ার শুরু থেকেই আপনার ইংরেজী ভীতি দূর করা অত্যন্ত জরুরী। এজন্যে ইংরেজি পত্রিকা পাঠ কিংবা নিয়মিত ইংরেজি চর্চার কোন বিকল্প নেই। 

প্রতিনিয়ত গণিত চর্চা:

ইহা বিসিএস প্রস্তুতির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনাকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় অংক করার পেছনে সময় ব্যয় করতে হবে। এতে করে আপনি খুব সহজেই ধীরে ধীরে অংকের দুর্বলতা উঠতে পারবেন এবং গণিতের বাঁধা থেকে পার পাবেন সহজেই

বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান :

বিগত বছরের  প্রশ্ন সমাধানে মিলবে  আপনার বিসিএসের সফলতা। আপনি যখন বিসিএস এর বিগত দীর্ঘসময়ের পুরনো প্রশ্ন সমাধান করবেন তখন সহজেই আপনি বিসিএসের প্রশ্নের ধরন বুঝতে পারবেন এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

কৃপণতা কে না বলুন:

এই কৃপণতা বলতে বোঝানো হচ্ছে বই কেনার ক্ষেত্রে কৃপণতা। এমন অনেকেই আছি যারা বিসিএস এর প্রস্তুতি নিতে চাই কিন্তু বই কিনতে চাই না। যা একটি বড় মাত্রার ভুল। আপনি যদি প্রস্তুতি নিতে চান তবে আপনাকে আপনার সামর্থ্যের মধ্যে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বইগুলো অবশ্যই কিনতে হবে।

নিজেকে এবং নিজের চারপাশকে জানা:

আপনার নিজ জেলা, অধ্যয়নের বিষয় এবং চারপাশের বিভিন্ন জিনিস সম্পর্কে আপনার গভীর জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। কেননা, বিসিএস এর বিভিন্ন ক্ষেত্রে আপনাকে এসব বিষয় প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে।

Read More :   আমি যেভাবে বিসিএস (বাংলা) প্রিলিমিনারী প্রস্তুতি নিয়েছিলাম

যাচাই, যাচাই এবং যাচাই:

বিসিএস প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরী জিনিস হল নিজেকে যাচাই করা। এই যাচাই করার জন্য আপনাকে প্রচুর পরিমাণ মূল্যায়ন পরীক্ষা দিতে হবে। এই পরীক্ষা আপনি দিতে পারেন বিভিন্ন অনলাইনে বিসিএস প্রস্তুতি সম্পর্কিত মোবাইল অ্যাপে, কোচিং সেন্টারে অথবা বইগুলোতে। এর মাধ্যমে নিজের দুর্বলতাগুলো বুঝতে পারবেন এবং সেসব দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠে আপনার আরও উন্নতির সুযোগ পাবেন। 

বিসিএস প্রস্তুতি বই:

বিসিএস এর প্রস্তুতিতে বই পড়াই সবকিছু নয়  বরং নিয়মিত পড়া এবং একটি নির্দিষ্ট বইয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধারণ করাই বড় বিষয়। তাই আপনি যেকোনো একটি কোম্পানির নির্দিষ্ট একটি পরীর বই সংগ্রহ করে তা পড়া শুরু করুন এবং ধীরে ধীরে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন তারপর আপনার কোন বইগুলো পড়া উচিত।

বিসিএস প্রস্তুতি নিয়ে আমার কথা:

পরিশেষে একটা কথাই বলতে পারি যে বিসিএস প্রস্তুতি এর জন্য সুপরিকল্পিত এবং সাজানো-গোছানো পরিবেশ পরিস্থিতির মধ্যেই নিজেকে ভালভাবে বিসিএস প্রিলিমিনারি এবং বিসিএস প্রিলি পাশের পর লিখিত পরীক্ষার জন্য উপরিউল্লিখিত ধাপগুলো অনুসরণ বাধ্যতামূলক। নতুবা একজন ভাল শিক্ষার্থী হয়েও বিসিএস পরীক্ষায় ঊত্তীর্ণ হতে পারবেন না।